সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষাকে ঘিরে সম্প্রতি প্রকাশিত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে অবস্থান স্পষ্ট করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শনিবার (২ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন ঐক্য পরিষদ’-এর সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে বৃত্তি পরীক্ষার বিষয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষার যৌক্তিকতা ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত পরিবারের। তাদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আর্থিক প্রণোদনার অংশ হিসেবে শুধুমাত্র ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষা চালু রয়েছে। এটি কোনোভাবেই বৈষম্যমূলক নয়; বরং এটি একটি সহায়ক উদ্যোগ।
মন্ত্রণালয় জানায়, কিন্ডারগার্টেনগুলো তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ২য় থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন বৃত্তি পরীক্ষা’ চালু রেখেছে। তবে সেখানে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেন না। ফলে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষার দাবি ওঠে, যা বাস্তবায়ন করেছে সরকার।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংবিধান অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরে অবৈতনিক ও সার্বজনীন শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তাই সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষা একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।
শেষে মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানায়, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় প্রাথমিক শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই এবং যারা বেসরকারি স্কুলে সন্তানদের পাঠান, তারা তা স্বেচ্ছায় করেন।

0 Comments