Ticker

10/recent/ticker-posts

Ad Code

২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন: দেবীগঞ্জে তরুণী রত্না হত্যা মামলায় প্রেমিক মহাদেব রায় গ্রেফতার

 

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে তরুণী সুলতানা আক্তার রত্না (২০) হত্যা মামলার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত তরুণীর প্রেমিক মহাদেব রায়কে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।



গত ৩০ জুলাই সকালে দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের দহলা খাগড়াবাড়ি মাঝপাড়া গ্রামের ধানক্ষেতে এক তরুণীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পরে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে তার পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত রত্না ওই গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে।


এ ঘটনায় নিহতের বাবা রবিউল ইসলাম দেবীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা (মামলা নং-২৭/১৬১, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ তদন্তে নামে।


পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সীর দিকনির্দেশনায়, দেবীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার স্যামূয়েল সাংমার তদারকিতে এবং তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে অগ্রসর হয়।


এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, নিহত রত্নার প্রেমিক মহাদেব রায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মহাদেব রায় স্বীকার করেন, তার সঙ্গে রত্নার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে অন্যত্র বিয়ে ঠিক হলে রত্না ক্ষোভে পালিয়ে গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে, মহাদেব তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন।


মহাদেব তার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানান, ঘটনার দিন তিনি রত্নাকে ডেকে নিয়ে ধানক্ষেতে নিয়ে যান। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে নিজের পরনের ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে রত্নাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান।


দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মামলার অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্তকে রিমান্ডে এনে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে।





Post a Comment

0 Comments